মাশরাফির সাহসিকতা দেখে অবাক চিকিৎসক

ডেভিড ইয়াংয়ের নাম শোনেননি- এমন ক্রিকেট সমর্থক পাওয়া একটু কঠিন।

বিশ্বের তারকা অ্যাথলেটদের চিকিৎসার জন্য জনপ্রিয় অস্ট্রেলিয়ার এই চিকিৎসক।

মাশরাফি বিন মুর্তজা থেকে শুরু করে তামিম ইকবাল- চোট সারাতে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররাও ইয়াংয়ের শরণাপন্ন হন।

সেই ইয়াং ৯ বছর আগেই মাশরাফিকে খেলা ছাড়তে বলেছিলেন।

৯ বছর আগেই মাশরাফিকে খেলা ছাড়তে বলেছিলেন ইয়াং! ইয়াংয়ের কাছে ‘অতি পরিচিত’ মাশরাফি।

বারবার অপারেশন থিয়েটারে যাওয়া মাশরাফি বেশিরভাগ ইঞ্জুরির চিকিৎসা করিয়েছেন ইয়াংয়ের কাছে।

মাশরাফির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ইয়াংয়ের চেয়ে বেশি জ্ঞাত ছিলেন না কেউ।

সেই ইয়াংই মাশরাফিকে ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ২০১১ সালে।

সম্প্রতি ফেসবুকে সরাসরি আলাপচারিতায় এই তথ্য জানান খোদ মাশরাফি। চোট নিয়ে ইয়াংয়ের রোগী হয়েছেন তামিমও। একবার শরণাপন্ন হয়েছিলেন ইয়াংয়ের বন্ধুর। তখন দেখা হলে তামিমকে ইয়াং বলেছিলেন- তার ডাক্তারি ক্যারিয়ারে মাশরাফিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি এখনো খেলছেন- বিষয়টি বিশ্বাস হয় না ইয়াংয়ের নিজেরই।

২০০৩ সালে ফর্মের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয়বারের মত পায়ে (বাঁ পা) চোট পান মাশরাফি। তখনই প্রথম যান ইয়াংয়ের কাছে। ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মাশরাফির তিনটি অপারেশন করেন ইয়াং। লাইভে তামিমকে মাশরাফি বলেন, ‘এরকম বাজে পরিস্থিতি আমাদের সবারই কখনো না কখনো যায়। আমার শরীরের উপর দিয়ে গেছে, তোর হয়ত যাবে মানসিকভাবে।

এরকম সবারই যায়। আল্লাহ আমাদের এমন সময় দেন যখন আমরা কোনো সুযোগ খোলা না দেখে মানসিকভাবে অনেক শক্ত হয়ে যাই। এটাও একটা ব্যাপার।’ মাশরাফি আরও বলেন, ‘২০১১ সালে ইয়াং আমাকে বলেছিল- যথেষ্ট খেলেছ। তোমার নিজের জীবন আছে।ক্রিকেটেই থাকো, অন্য কিছু করো। তোমার আর অপারেশন না করা উচিৎ। তখন তাকে বলেছিলাম- এই প্রথম অস্ট্রেলিয়া এসে আমি হতাশ হলাম। তুমি বরং অপারেশন করো। অপারেশন থিয়েটারে বসে তার সাথে এসব কথা বলছিলাম। ইয়াংকে জানাই- তুমি এসব আমার উপর ছেড়ে দেও।’

Updated: 06/05/2020 — 1:37 PM