করোনায় সফল ওষুধ কিউবার ‘আলফা টু-বি’

ইন্টারফেরন আলফা টু-বি’ নামে পরিচিত কিউবার এক ওষুধ করোনার মুক্তিতে ব্যাপক

কাজ করছে। চীনের চিকিৎসকরা করোনা আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে এই ওষুধটি

সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন। ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা বায়কিউবা ফারমা গ্রুপের

সভাপতি এডুয়ার্ডো মার্টিনেজ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘আলফা টু-বি’ ওষুধ ব্যবহার করে এক হাজার পাঁচশোরও

বেশি রোগীকে সুস্থ করে তুলেছেন তারা। করোনা রোগ প্রতিরোধের জন্য চীনের জাতীয়

স্বাস্থ্য কমিশনের নির্বাচিত ৩০টি ওষুধের মধ্যে অন্যতম এটি। আমাদের হাতে চীনে

সংক্রমিত সকল রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ ওষুধ রয়েছে।সূত্র: ওয়ান

কিউবা নিউজ

ওষুধটির আবিষ্কার হয় কিউবায়। চীনের জিলিন প্রদেশে অবস্থিত চ্যাংচুন হেবার

বায়োলজিক্যাল টেকনোলজিতে এটির উৎপাদন হয়। জৈবপ্রযুক্তিতে দুই সমাজতান্ত্রিক

দেশের মধ্যে এক চুক্তির অংশ হিসেবে এটি যৌথ উদ্যোগে উৎপাদিত হচ্ছে। শুক্রবার

(১৩ মার্চ) এডুয়ার্ডো মার্তনেজ জানান, কিউবায় উত্পাদিত ২২ টি ওষুধ করোনভাইরাস

প্রাদুর্ভাবের মোকাবেলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

এই ওষুধ কয়েক হাজার মানুষের চিকিত্সা সেবা দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে তৈরি করা

হয়েছে। তবে উত্পাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। কিউবার ওষুধ শিল্প হাজার

হাজার সম্ভাব্য করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিত্সা করতে প্রস্তুত। তারা উৎপাদন বৃদ্ধি

করার গ্যারান্টিও দিয়েছে। এডুয়ার্ডো মার্টিনেজ জানিয়েছেন, করোনা মোকাবেলার ওষুধ

সরবরাহ করার জন্য অনেক দেশেই অনুরোধ করছে। আমরা ওষুধ সরবরাহ করবো।

কারণ আমাদের প্রয়োজনীয় সামর্থ্য রয়েছে। এতে দেশে ওষুধ সঙ্কটে পড়বে না।

কিউবার এই ওষুধের কার্যকারিতা জানার পরেই জনপ্রিয় হয়ে যায় ‘ইন্টারফেরন আলফা

টু-বি’। এরপর থেকে সারা বিশ্ব থেকে এই ওষুধ কেনার অর্ডার পেতে শুরু করে কিউবা।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ল্যাটিন আমেরিকান, ক্যারিবীয় ও

ইউরোপীয় বেশ কয়েকটি দেশ কিউবার কাছ থেকে চিকিৎসা সহায়তার অনুরোধ

করেছে।

সারা বিশ্বের বিপুল সংখ্যক দেশ থেকে এই ওষুধ বিক্রির অনুরোধ পাওয়ার পরেই এর

উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে চলেছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সিআইজিবির হাতে

প্রয়োজনীয় পরিমাণ সরবরাহ রয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের

চাহিদাও মিটাতে পারবে। কিউবা ‘ইন্টারফেরন আলফা টু-বি’ পানামা ও

ভেনিজুয়েলায়সহ ল্যাটিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে পাঠিয়েছে।

যাদের ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাদের ওপর এই ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

চিকিৎসা কর্মী, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও করোনভাইরাস সংক্রমিত লোকদের চিকিৎসা

পরিকল্পনা পাঠিয়ে সহায়তা করার জন্য কিউবাকে অনুরোধ করেছে জামাইকা, সেন্ট

কিটস অন্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডার সরকার।

এদিকে, সবার অনুরোধ রাখতে চলেছে কিউবা। দেশটির ওষুধ শিল্প ইন্টারফেরন আলফা

টু-বিসহ করোনার চিকিৎসা করা যায় এমন ২২ ধরনের ওষুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে

যাচ্ছে।

Updated: 18/03/2020 — 12:32 AM